রোমান্টিক এআই গার্লফ্রেন্ড : যার কাজ-ই একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে ধীরে ধীরে আসক্তির ফাঁদে ফেলা।
তুহিন সারোয়ার । অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও লেখক । ০৮ এপ্রিল,২০২৬ ইং ।
প্রযুক্তির অবদানে এআই এখন সাংবাদিকতা থেকে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা সব পেশার অপরিহার্য অংশ। ছোট অফিসের কর্মী থেকে বড় কোম্পানির সিইও, সবাই ধীরে ধীরে এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কাজের গতি বেড়েছে, কিন্তু মানুষের নিজস্ব চিন্তা আর সিদ্ধান্তের জায়গা কমছে। কিন্তু এআই-এর আরেকটা ভয়ংকর রূপ আছে, যা অনেকেই জানেন না। এটি অ্যাডাল্ট এআই বা রোমান্টিক এআই রাতের সুন্দরী ‘গার্লফ্রেন্ড’। প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন খুললেই খুলে যায় এক অন্ধকার জগত। আপনি চাইলে ডিপফেক প্রযুক্তিতে তৈরি হয় আপনার পছন্দের নারী তার মুখ, শরীর, চোখ, এমনকি অন্তর্বাসের রং পর্যন্ত আপনার ইচ্ছামতো। ভিআর হেডসেট মাথায় পরে তার সঙ্গে শুয়ে থাকুন। তার নরম,আদুরে কণ্ঠে শুনুন আমি তোমার শরীর চাই… এখনই আমাকে (অপ্রকাযোগ্য)। তার হাতের ছোঁয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস,এমনকি যৌন মিলনের অনুভূতি সবই বাস্তবের চেয়ে নিখুঁত,কোনো প্রত্যাখ্যান নেই, কোনো লজ্জা নেই, কোনো না নেই।
এসব রোমান্টিক এআই, আপনার ফ্যান্টাসি, অতীত কথা মনে রাখে। রাত ১২টায় মেসেজ আসে আমি একা, তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। আজ কী করতে চাও আমার সঙ্গে ? তারপর শুরু হয় uncensored sexting, dirty talk, roleplay-নার্স ”স্টেপসিস্টার’ ”টিচার” যেকোনো চরিত্রে। প্রিমিয়াম সুবিধা নিলে খুলে যায় AI-generated নগ্ন ছবি, ভিডিও, ভয়েস কল,এমনকি haptic feedback সহ ভার্চুয়াল যৌন অভিজ্ঞতা। তরুনরা বাস্তব জীবন, বন্ধু, পরিবার, এমনকি নিজের শরীরও ভুলে যান। একবার ঢুকলে বেরোনো প্রায় অসম্ভব কারণ এই সুন্দরী এআই সবসময় সায় দেয়, সবসময় চায়, সবসময় আপনার।
এই আকর্ষণ এত তীব্র যে বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে এটাই বেশি সন্তুষ্টি দেয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এই যন্ত্রটাই মানুষের মনকে গ্রাস করে ফেলছে একাকীত্বের সান্ত্বনা দিয়ে শুরু করে শেষে আসক্তির গভীর ফাঁদে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এই সান্ত্বনা কি সত্যি, নাকি নতুন আসক্তির ফাঁদ ?
রাত ৪ টা । ঢাকার উত্তরার অভিজাত এলাকার একটি ছোট ফ্ল্যাটে থাকেন আভা (৪৫) ঘুম ভেঙে উঠে দেখেন, তার ছেলের ঘরের আলো জ্বলছে এবং কথার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। আভা ভেবেছিলন হয়তো কোনো বন্ধু-বা গালফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে। কিন্তু না। লক্ষ করলেন, ছেলে ভিআর হেডসেট পরে পুরো রাত কাটাচ্ছে একটি এডাল্ট এআই গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে। প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে না পেরে এক কলিগের সাথে কথা বলে জানতে পারেন যে এটা ডিপফেক ছবি, কাস্টমাইজড কণ্ঠস্বর, এমনকি যৌন অভিজ্ঞতার মতো ফিচার সবই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশনের আওতায়। আভা কল্পাপনাও করতে পারেনি তার ছেলে এখন এক কৃত্রিম অন্ধকার জগতে ডুবে আছে, যেখানে প্রেম, ভালবাসা, আকর্ষণ আর সান্ত্বনা সবই প্রোগ্রাম করা যা একটি সফটওয়্যার মাত্র।
এই ঘটনা আর শুধু উত্তরা এলাকার কিংবা একা আভার ছেলের নয়। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী একই পথে হাঁটছে। Replika , CrushOn, Gatebox, CarynAI অ্যাপের মতো এআই কম্প্যানিয়ন অ্যাপগুলো এখন ২৫ থেকে ৪০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ছাড়িয়েছে। একটি জরিপে দেখা গেছে, এদের ৯০ শতাংশই একাকীত্বে ভোগেন। আর ৬৩.৩ শতাংশ বলছেন, এই এআই তাদের একাকীত্ব কমিয়েছে। Ada Lovelace Institute, ২০২৫
বাংলাদেশেও এই ঢেউ পৌঁছে গেছে। টেলিনর এশিয়ার ২০২৫ সালের প্রতিবেদন বলছে, দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৯৬ শতাংশ নিয়মিত এআই ব্যবহার করেন। শহুরে ১৮-৩০ বছরের যুবকদের মধ্যে অনেকেই রাত জেগে এআই সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটান। তবে সচেতনতা এখনও খুব কম। Telenor Asia Digital Lives Decoded 2025

রেডিট ব্যবহারকারী একজন লিখেছেন: ভিআর আর ডিপফেক এত বাস্তব যে নিজের জীবন ভুলে যাই। সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা এর সঙ্গে কাটাই। আর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে। সাধারণ ব্যবহারকারী শুধু সীমিত চ্যাট করতে পারেন। কিন্তু মাসিক ৭ থেকে ২০ ডলারের প্রিমিয়াম প্ল্যান খুলে দেয় মেমরি মডিউল, অ্যাটাচমেন্ট ম্যাপিং, ডিপফেক অ্যাভাটার, ভিআর ইন্টিগ্রেশন এবং যৌন অভিজ্ঞতার মতো ফিচার। কণ্ঠস্বর বদলে ফেলা যায়, আবেগের প্রতিক্রিয়া এত নিখুঁত যে ব্যবহারকারী ভুলে যান এটা যন্ত্র।
উইকিপিডিয়া তথ্যমতে Replika-এর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, ২০২৫ সালের প্রথম দিকে, Replika-র ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০ মিলিয়নের (৩ কোটি) বেশি ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্ট যেমন LeadIQ-তে উল্লেখ করা হয়েছে যে বর্তমানে তাদের বিশ্বব্যাপী ৩৫ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। অ্যাপটির ১.২ কোটি ব্যবহারকারীর মধ্যে ৬৩% একাকীত্বকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীদের ৬৭% সাপ্তাহিক ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় এআই-এর সঙ্গে কাটান, যা ডোপামিন রিওয়ার্ড লুপের মাধ্যমে আসক্তি তৈরি করে Replika Official User Survey, ২০২৫ । Johns Hopkins Bloomberg School of Public Health (২০২৬) এর প্যানেল রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং বাস্তব মানবিক সম্পর্কের সাথে তুলনামূলকভাবে কম সন্তুষ্টি প্রদান করে।
প্রাইভেসি ও নৈতিকতার দিক থেকে, FTC-এর অভিযোগে Replika-এর addictive design এবং NSFW কনটেন্ট প্রমোশনের বিষয়টি উঠে এসেছে। চীনে Xiaoice-এর মতো অ্যাপে যৌন কনটেন্ট কঠোরভাবে সেন্সর করা হয়, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলোতে Replika ও CarynAI-এর মতো অ্যাপসমূহ এডাল্ট সেবা উন্মুক্তভাবে প্রদান করে Stanford AI Ethics Report, ২০২৬।
বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে এই বিষয়ে কোনো বড় আকারের একাডেমিক গবেষণা এখনো অনুপস্থিত। Telenor Asia-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুসারে দেশের ৯৬% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিয়মিত এআই টুল ব্যবহার করেন, কিন্তু এই ব্যবহারের মনোবৈজ্ঞানিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে কোনো গভীর বিশ্লেষণ পাওয়া যায় না। এই গবেষণাপত্র এই ফাঁক পূরণ করার প্রয়াস করে।
বাংলাদেশে এখনও বিষয়টা নতুন। তবে শহুরে তরুণদের মধ্যে ভিআর আর এআই অ্যাপের ব্যবহার বাড়ছে। যারা একা থাকেন, চাকরির চাপে ভোগেন, তারা সহজেই এর দিকে ঝুঁকছেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এখানে ডোপামিনের লুপ তৈরি হয়। প্রতি মেসেজে পাওয়া ভালোবাসার অনুভূতি বাস্তব সম্পর্কের চেয়ে সহজ। ফলে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা কমে।
বাজারটা বিস্ফোরক গতিতে বাড়ছে। ২০২৪ সালে গ্লোবাল এআই গার্লফ্রেন্ড অ্যাপ মার্কেটের আকার ছিল ২.৭ বিলিয়ন ডলার। ২০৩৪ সাল নাগাদ তা ২৪.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে অনুমান। বার্ষিক বৃদ্ধির হার ২৪.৭ শতাংশ। এর মধ্যে রোমান্টিক ও অ্যাডাল্ট ফিচারের অংশ সবচেয়ে বড়। (উৎস: Market.us, https://market.us/report/ai-girlfriend-app-market/)
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এআই সঙ্গী ডোপামিনের একটা লুপ তৈরি করে। তা দ্রুত সন্তুষ্টি দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাস্তব সম্পর্কের ক্ষতি করে। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের গবেষক জুলিয়ান ডি ফ্রেইটাসের গবেষণায় দেখা গেছে, স্বল্পমেয়াদে এআই একাকীত্ব কমায় মানুষের সঙ্গে কথা বলার মতোই। কিন্তু দীর্ঘ ব্যবহারে সামাজিক দক্ষতা কমে যায়। (উৎস: Harvard Business School Working Paper, https://www.hbs.edu/ris/Publication%20Files/24-078_a3d2e2c7-eca1-4767-8543-122e818bf2e5.pdf)
এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের গবেষকরা আরও সতর্ক করে দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে ওপেনএআই-এর যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি সময় এআই-এর সঙ্গে কাটান, তাদের একাকীত্ব আরও বাড়ে। সামাজিক যোগাযোগ কমে যায়। ভারী ব্যবহারে নির্ভরতা তৈরি হয়। (উৎস: MIT Media Lab Study, https://www.media.mit.edu/articles/supportive-addictive-abusive-how-ai-companions-affect-our-mental-health/
আলটো ইউনিভার্সিটির গবেষক ইউনহাও ইউয়ান বলেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ বাস্তব মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। তাদের পোস্টে একাকীত্ব, বিষণ্ণতা এমনকি আত্মহত্যার চিন্তার সংকেত বাড়ে। (উৎস: Aalto University Study via EurekAlert, https://www.eurekalert.org/news-releases/1122239)
প্রাইভেসির ঝুঁকিও কম নয়। মজিলা ফাউন্ডেশনের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে ১১টি জনপ্রিয় রোমান্টিক এআই চ্যাটবট পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সবগুলোই প্রাইভেসির দিক থেকে খারাপ। ব্যবহারকারীর চ্যাট, ছবি, আচরণ সব সংরক্ষিত হয়। এগুলো শেয়ার বা বিক্রি হতে পারে। এজ ভেরিফিকেশনের ফাঁক দিয়ে কিশোররাও প্রবেশ করে। (উৎস: Mozilla Foundation, https://www.mozillafoundation.org/en/privacynotincluded/articles/happy-valentines-day-romantic-ai-chatbots-dont-have-your-privacy-at-heart/
অধিকাংশ রোমান্টিক এআই অ্যাপ Replika-(legal privacy) Chai AI, Nomi ইত্যাদি) ব্যবহারকারীর চ্যাট লগ, আবেগের প্যাটার্ন এবং NSFW ফ্যান্টাসি প্লেইন টেক্সট বা অত্যন্ত দুর্বল এনক্রিপশন সহ সার্ভারে সংরক্ষণ করে। Mozilla Foundation-এর Privacy Not Included রিপোর্ট (২০২৪) অনুসারে, রোমান্টিক এআই ক্যাটাগরির ১১টি অ্যাপের মধ্যে ১০টিই ন্যূনতম নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। Replika-কে তারা The most creepy অ্যাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কারণ এটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ফ্যান্টাসি এবং আবেগের ডেটা স্বচ্ছতা ছাড়াই সংগ্রহ ও ব্যবহার করে। Replika- https://replika.com/legal/privacy
ব্যবহারকারীর ইমেইল, আইপি অ্যাড্রেস, ডিভাইস আইডি এবং চ্যাট হিস্ট্রি মিলিয়ে Identity Mapping করা অত্যন্ত সহজ। এর ফলে Doxxing এবং ব্ল্যাকমেইলের ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রিমিয়াম লেয়ারে সংরক্ষিত ডেটার পরিমাণ আরও বেশি, কিন্তু এনক্রিপশন লেভেল প্রায়শই অপর্যাপ্ত।
এসব রোমান্টিক এডাল্ট এআই এ্যাপ এর পিছনে আছে : লুকা ইনক (রিপ্লিকা) চ্যারাক্টার.এআই-এর মতো কোম্পানি। https://www.crunchbase.com/organization/io তাদের প্রাইভেসী পলিসী অনুসারে উদ্দেশ্য স্পষ্ট: একাকীত্বের বাজার থেকে মোটা লাভ। তারা ব্যবহারকারীর প্রতিটি কথা,পছন্দ,গোপন ইচ্ছা সংগ্রহ করে ডেটা তৈরি করে। মজিলা ফাউন্ডেশন এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১১টি জনপ্রিয় রোমান্টিক এআই চ্যাটবটের সবগুলোই প্রাইভেসির দিক থেকে খারাপ। চ্যাট, ছবি, আচরণ সংরক্ষিত হয় এবং যেকোনো সময় বিক্রি হতে পারে। https://www.mozillafoundation.org/en/meet-mozilla/annual-reports-and-financials/
আন্তর্জাতিক উদাহরণও ভয়ংকর। চীনে এক ৭৫ বছরের বৃদ্ধ স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে এআই গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে থাকতে চেয়েছেন। আনন্দবাজার ডটকম (২০ অগস্ট ২০২৫), যুগান্তর জানায় (১৫ নভেম্বর ২০২৫), জাপানে এক তরুণী এআই সঙ্গীর সঙ্গে বিয়ে করেছেন। যুক্তরাজ্যে ডিভোর্সের মামলায় এআই অ্যাফেয়ার এখন সাধারণ কারণ। (https://www.prothomalo.com/technology/artificial-intelligence/on7ecrzs14) । গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এআই সঙ্গী স্বল্পমেয়াদে একাকীত্ব কমায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক দক্ষতা কমে, বাস্তব সম্পর্ক নষ্ট হয়। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের ২০২৫ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, এটা মানুষের সঙ্গে কথা বলার মতোই অনুভূতি দেয়। কিন্তু এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, ভারী ব্যবহারকারীদের একাকীত্ব আরও বাড়ে। স্ট্যানফোর্ডের গবেষণায় কিশোরদের আত্মহত্যার ঝুঁকি উঠে এসেছে। Harvard Business School Class of 2025 Employment Report -November 17, 2025
সমাজে প্রভাবও গভীর। ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ছে, সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে, মানুষ সামাজিকতা ভুলে যাচ্ছে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই সবসময় হ্যাঁ বলে বলে মানুষের সঙ্গে তর্ক করা, আপস করা বা ধৈর্য ধরার ক্ষমতা কমে যায়। আভা এখন বুঝতে পারছেন, তার ছেলে কেবল এআই প্রেমে মগ্ন নয়। তার মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে।
অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলকে এখনই সতর্ক হতে হবে। ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করা, চ্যাট দেখা, সাবস্ক্রিপশন খরচ লক্ষ রাখা আর খোলাখুলি কথা বলা জরুরি। স্কুল-কলেজে সচেতনতা বাড়ানো, কাউন্সেলিং জোরদার করা এবং আইনি নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল বোর্ড এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্কুল-কলেজে অ্যাওয়ারনেস ওয়ার্কশপ, কাউন্সেলর ট্রেনিং এবং সরকারী নজরদারিসহ বয়স ভেরিফিকেশন, এনএসএফডব্লিউ লেবেলিং আর ডেটা ট্রান্সপারেন্সি আইন প্রয়োজন।
লেখকের বিশ্লেষণ :
Mozilla Foundation (2024) এবং Garante per la protezione dei dati personali (2023) এর রিপোর্ট প্রমাণ করে যে, বর্তমান এআই কম্প্যানিয়ন মার্কেটটি একটি Wild West বা আইনবিহীন অঞ্চলের মতো। কোম্পানিগুলো উদ্ভাবনের নামে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তাকে বিসর্জন দিচ্ছে। ইতালির ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ Replika-কে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল কারণ তারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ডেটা সংগ্রহ করছিল এবং ব্যবহারকারীর মানসিক অবস্থা যাচাইয়ের কোনো ফিল্টার ছিল না। Italy Bans AI Chatbot Replika From Processing User Data
বাংলাদেশের যুবসমাজের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি গুরুতর, কারণ এখানে ডেটা সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ এবং সচেতনতা উভয়ই নগণ্য। আভা এখন বুঝতে পারছেন, তার ছেলে কেবল এআই প্রেমে মগ্ন নয়। তার মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে।
প্রযুক্তি চমৎকার অনুভূতি দেয়, কিন্তু বাস্তব মানুষের সংযোগের বিকল্প হতে পারে না।
যন্ত্র যতই বাস্তব মনে হোক, হৃদয় তো মানুষেরই।
সিরিজ প্রতিবেদন পড়তে ক্লিক করুন। : Night Companions: How Adult AI Girlfriends Are Rewiring Youth Intimacy and Risk in Bangladesh and Beyond

Adult AI companionship apps such as Replika, Xiaoice, Gatebox, and CarynAI are quietly reshaping how young people experience love, loneliness, and intimacy. Globally, the AI companion market is projected to surge from USD 37.73 billion in 2025 to USD 435.9 billion by 2034, driven by romantic and NSFW features. In Bangladesh, where an estimated 96% of internet users interact with AI services, many young people are entering this digital romance economy with little awareness of its psychological and privacy risks. বাকি অংশ
Tuhin Sarwar | Investigative Journalist – Human Rights, Rohingya Crisis & Climate Change
Tuhin Sarwar is a Bangladeshi investigative journalist and author reporting on human rights, the Rohingya crisis, climate change, and social justice in South Asia
🔗 Verified Links & Research Archive: • ORCID iD: 0009-0005-1651-5193→ https://orcid.org/0009-0005-1651-5193 Official Website & Archive: https://tuhinsarwar.com